নুরুল হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ৪র্থ তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কোটি টাকার এই প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর মারমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রিপনের নামে জারি করা হয়। চুক্তিমূল্য ছিল ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭১৭ টাকা ৫০ পয়সা। এ পর্যন্ত ঠিকাদার প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেছেন। যদিও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ২ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা।
২০১৯ সালে কাজ শুরু হলেও ৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ভবনটি সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। ফলে নতুন ভবনটি এখনো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইন বলেন, একের পর এক সাব-কন্ট্রাক্টর কাজ নিয়ে চলে গেছে। কেউই নির্ধারিতভাবে কাজ শেষ করেনি। ফলে ভবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ দীর্ঘদিন অসমাপ্ত পড়ে ছিল।
সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, বর্তমানে রং করার কাজ চলমান রয়েছে। তবে এখনো দরজা স্থাপন, থাই গ্লাস লাগানো, পাইপলাইন, বাথরুমের ফিটিংস, বৈদ্যুতিক সংযোগসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আকরামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরে ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি কিছু বলতে পারব না। আমার পেটে লাঠি দিয়েন না। আমি কাজ করে সংসার চালাই। আমি কারও নম্বর দিতে পারব না। স্কুল থেকে জেনে নিন।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মারমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রিপনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৫৫৮-৪৩০৯৬৪-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার টাকার এই প্রকল্প সাত বছরেও কেন শেষ হলো না? নির্মাণকাজে এত দীর্ঘ বিলম্বের জন্য দায়ী কে? তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, কক্সবাজারের প্রকৌশলী ইঞ্চিনিয়ার সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই ভবনটি বুঝিয়ে দিতে পারব। দেরির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভবনটির কাজ ২০১৮ সালের দর অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদার কাজ বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়ে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যাদেশ বাতিল না করে আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ টাকার বিল বাকি রয়েছে। কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পরই ওই বিল পরিশোধ করা হবে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম.অনীক চৌধুরী বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এদিকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
All rights reserved © 2026 DailyRupaliSaikat.Com
Developed By : AZAD WEB IT