প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ২:১৫ পি.এম
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি বন্ধ থাকায় সেবা বঞ্চিত কুতুবদিয়া দ্বীপবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক (কুতুবদিয়া- কক্সবাজার)
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিযেটার (ওটি) বিগত দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ওটি সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকট, বিশেষ করে গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ এ সেবা।
দীর্ঘদিন ধরে ওটি সেবা বন্ধ থাকায় সরকারী কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত পড়ে আছে।
এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থে কেনা যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদের ছুটতে হচ্ছে কক্সবাজারসহ দূরবর্তী হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূর্ণাঙ্গভাবে ওটি সেবা চালু করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অর্থায়নে হেলথ এন্ড জেন্ডার সাপোর্ট প্রজেক্ট (HGSP)-এর আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা ছিল PHD।
প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ওটি সেবার পাশাপাশি হাসপাতালের লেবার রুমের সক্ষমতা বাড়ানো হয় এবং NSU-সহ আরও কয়েকটি সেবা সম্প্রসারণ করা হয়।
ফলে দ্বীপবাসী উপজেলা সদরের ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেবাসহ অস্ত্রোপচারের সেবা গ্রহনের সুযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেবা পাওযায় স্বাস্থ্যসেবা সংকটও তখন অনেকটা কমে আসে।
তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে HGSP প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে হাসপাতালটি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে পড়ে।
বিশেষ করে গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় ওটি সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় দেড় বছর পার হলেও এখনো সেবাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে সেবা চালু রাখা যথেষ্ট নয়।
প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও সেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ওই হাসপাতালে স্থায়ী জনবল কাঠামো নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি মুখ থুবড়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে ওটি বন্ধ থাকায় সেখানে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতির ব্যবহার নেই বললেই চলে। নিয়মিত ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি তদারকি না থাকায় এসব আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কোটি টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে যদি চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে সেবা বন্ধই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থের এই বিনিয়োগ কতটা কার্যকর হচ্ছে?
এখানকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য দ্বীপের বাহিরে যেতে হলে নৌপথ পাড়ি দিতে হয়। জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে এই যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তাই দ্বীপের সচেতন মহল দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি কনসালটেন্টসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল পদায়ন করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গোলাম মারুফ দৈনিক রুপালী সৈকতকে বলেন, “ওটি সেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে সেবাটি বন্ধ। গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি"।
All rights reserved © 2026 DailyRupaliSaikat.Com
Developed By : AZAD WEB IT