
প্রেসক্লাবের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের টাঙানো ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী।
ঘটনার ১০ দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে এনসিপি নেত্রী জিনিয়া শারমিন রিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—রাইয়ান কাশেম, মোহাম্মদ হোসাইন, আরিয়ান খান ফারাবী ওরফে ডালিম, সোহানুর রহমান সোহেল, সাঈদ স্বাধীন, আতাহার সাকিফ, আহসান জোবায়ের, জায়েদ বিন আমান, মোহাম্মদ রহমান সোহেল, মোহাম্মদ আবদুল হালিম, শামসুল আলম শ্রাবণ, আবদু শুক্কুর রুবেল ও এনামুল হক।
মামলার ১১ নম্বর আসামি দৈনিক আমার সংবাদ-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল হালিমের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
অপরদিকে, ১২ নম্বর আসামি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ-এর জেলা প্রতিনিধি শামসুল আলম শ্রাবণ ওই সময় নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
দুই সাংবাদিকের দাবি, মানববন্ধন ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ কিংবা সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই না করেই তাঁদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,
“সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই না করে কোনো পেশাদার সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন সাংবাদিক ঘটনার সময় হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন এবং আরেকজন নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত না করে তাঁদের আসামি করা হলে তা সাংবাদিক হয়রানির শামিল হবে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার করা উচিত নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন,
“মানববন্ধনে উপস্থিত না থেকেও দুই সাংবাদিককে দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইনে আসামি করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মামলা করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। কোনো সাংবাদিককে অহেতুক হয়রানি করা হলে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব তা মেনে নেবে না।”
তিনি বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সবসময় সোচ্চার। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নিরপরাধ সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
দুই সাংবাদিককে মামলায় আসামি করার ঘটনায় কক্সবাজারের সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বা মতামত প্রকাশের কারণে তাঁকে হয়রানি করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণের গুরুত্ব রয়েছে।
এদিকে, মামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
All rights reserved © 2026 DailyRupaliSaikat.Com
Developed By : AZAD WEB IT