বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পূর্ব শাখা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে খুরুশকুলের বিএনপি নেতা সিকান্দর আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা, তদন্তে পিবিআই মানববন্ধনে না থেকেও দুই সাংবাদিক মামলার আসামি: কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পিএমখালীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতার ওপর হামলা, ২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কক্সবাজারের সর্ববৃহৎ খরুলিয়া বাজারে লাইটিং, সিসি ক্যামেরাসহ উন্নয়ন উদ্যোগ কক্সবাজারে ৬২ ইউপিতে ভোট, তফসিল চলতি মাসেই ফেনীর ৪ তরুণ অপহরণ মামলার আসামি জাহাঙ্গীর টেকনাফে গ্রেপ্তার রামুতে কিশোরীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বাবাকে দা দিয়ে কোপ টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি-২০২৬-এর ৭ কৃতী শিক্ষার্থী ও সফল অভিভাবকদের রাজকীয় সংবর্ধনা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর-ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীসহ গ্রেপ্তার ২২

মালয়েশিয়া পাচারের অভিযোগে নিখোঁজ ৩ কিশোর ও প্রতিবন্ধী, মানবপাচারকারী আবুল কালাম গ্রেপ্তার

জান্নাতুল ফেরদৌস, টেকনাফ প্রতিনিধি / ৭৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

জান্নাতুল ফেরদৌস, টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে উনছিপ্রাং এলাকার তিন কিশোর ও এক প্রতিবন্ধীকে মালয়েশিয়ায় পাচারের অভিযোগ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবুল কালামকে অবশেষে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আবুল কালামকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এনজিওর প্রশিক্ষণ ও মিটিংয়ের কথা বলে অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরদের প্রথমে বিভিন্ন স্থানে জড়ো করা হয়। পরে মালয়েশিয়ায় ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং দক্ষিণপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে মুফিজ প্রকাশ পাগলা মুফিজ এবং উনছিপ্রাং এলাকার শামসুল আলমের ছেলে রিদুয়ান, মৃত মোক্তার আহমদের ছেলে রাসেল ও মুহাম্মদ হোসেনের ছেলে দেলোয়ার। পরিবারের দাবি, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাচারের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রইক্ষ্যং এলাকার মৃত মুহাম্মদ হোছনের ছেলে আবুল কালামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দালালচক্র জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা নেয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় প্রথমে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পরে মানবপাচারের অভিযোগে কক্সবাজার মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ পৃথক মামলা করা হয়। দেলোয়ারের বাবা মুহাম্মদ হোসেনের করা মামলাটি সিপি-১৪৬/২০২৫ এবং রাসেলের মায়ের করা মামলাটি ১৫২/২০২৫ নম্বরে রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। মামলাগুলো বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এছাড়া আবুল কালামের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ৮ ধারায় ৪১/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিখোঁজ দেলোয়ারের মা রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চার মাস ধরে ছেলের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি। সে জীবিত আছে, নাকি কোনো বিপদে পড়েছে—কিছুই জানি না। সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো খবর পাইনি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী টেকনাফে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবার ও তরুণদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের চেষ্টা চালায় একটি চক্র। চাকরি, প্রশিক্ষণ ও বিদেশে ভালো আয়ের আশ্বাস দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। পরে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। পথে অনেকে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকও হচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উনছিপ্রাংয়ের নিখোঁজ কিশোর ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের অভিযানে মানবপাচার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবুল কালাম আটক হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে নিখোঁজদের দ্রুত শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবপাচার চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!
error: Content is protected !!