বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
রিয়াজ উদ্দিন:
কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোন সুগন্ধায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাসজমি দখলের একদিন পরই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার বিকেল ৫টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম। এ সময় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ, আনসার, বিচকর্মী ও পৌরসভার শ্রমিকরা অংশ নেন। বিকেল থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
অভিযান শেষে সরকারি জমিতে নির্মিত বাঁশ, টিনের বেড়া ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা মালামাল পৌরসভার গাড়িতে করে ডাম্পিং ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে দখলমুক্ত জায়গায় জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, শনিবার রাতে সরকারি জমি দখলের খবর পাওয়ার পরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি জমি দখল করে কেউ পার পাবে না। দখলের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ আবার দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতে প্রায় ১০ একর সরকারি জমি বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করেন। স্থানীয়দের দাবি, দখল করা জমির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমি ঘেরাওয়ের পর সেখানে কয়েকজন যুবক দিনরাত পাহারা দিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
রোববার বিকেলে দখলকারীদের সঙ্গে হকারদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে হকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে দখল করা জায়গার প্রায় ১০০ ফুটের বেশি টিনের বেড়া ভেঙে দেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয়রা বলেন, পর্যটন এলাকার সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে নানা সময়ে দখলের চেষ্টা হয়ে আসছে। খালি সরকারি জমি সুরক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা করা গেলে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এদিকে সুগন্ধার সরকারি জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে দখলমুক্ত করা হলো প্রায় ১০ একর সরকারি খাসজমি।