মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
রূপালী সৈকত ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বালুঘাটে কী ঘটেছিল
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় একটি বালু বিক্রির পয়েন্টে।
প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আনসার ও র্যাবের সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় বালু বিক্রির কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়।
এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন। পরে র্যাবের এক সদস্য তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে কয়েকবার আঘাত করেন।
ঘটনার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ার জাহানকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
ভিডিও ছড়াতেই শুরু হয় আলোচনা
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে একজন ব্যক্তিকে আঘাত করতে দেখা যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কে এই সারোয়ার জাহান?
মারধরের শিকার সারোয়ার জাহান বাচ্চু ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। তিনি ত্রিশালের ওই বালু বিক্রির প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে ঘটনার সঙ্গে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন পদ্ধতি নিয়ে
বালু বিক্রির পয়েন্টে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলাদা প্রশ্ন থাকলেও, ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অভিযানের সময় একজন সরকারি কর্মকর্তার আচরণ।
প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত—এ ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে একজন ব্যক্তিকে মারধরের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রত্যাহার, এরপর কী?
ঘটনার একদিন পরই ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে ত্রিশাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন সামনে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ, ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বক্তব্য—সবকিছু পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা হতে পারে।
একটি বালু বিক্রির পয়েন্টে প্রশাসনের অভিযান—সেখান থেকে একজন কর্মকর্তার আচরণ, ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত ইউএনওকে প্রত্যাহার—ঘটনাটি এখন প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আলোচনায়।
প্রশ্ন একটাই—অভিযান পরিচালনার সময় আইন প্রয়োগের সীমা কোথায়, আর একজন সরকারি কর্মকর্তার আচরণের দায় কতটা?