শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
নুরুল হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী খাবাইংগাগোনা গ্রামে স্থানীয় এক কৃষকের বাগান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০০টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগানের মালিক ছৈয়দ আলম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, বিকেল ৩টার দিকে বালুখালী খাবাইংগাগোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক মৃত আবদুল জলিলের ছেলে ছৈয়দ আলম।
ছৈয়দ আলমের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভোগদখলীয় বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে আসছিলেন। বাগানে আকাশমণি, রাম গাছ, চিকন পাতা, সিবা বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল। ঘটনার দিন তিনি অন্যত্র কাজে ছিলেন। এ সুযোগে স্থানীয় মৃত এজাহার মিয়া ছেলে আলী
আহমদ (৫০) কয়েকজন লোকজন নিয়ে তার বাগানে প্রবেশ করে গাছ কাটতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছৈয়দ আলমের দাবি, তার বাগানের প্রায় ৩০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে এবং অধিকাংশ গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাগানের গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান।
এ ঘটনায় ছৈয়দ আলম আরও অভিযোগ করেন, গাছ কাটার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাগানের গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু মেম্বার। তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটেছে—এটি সত্য। তবে বিষয়টি মূলত পারিবারিক সম্পত্তি ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
লালু মেম্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি ছয় ভাইয়ের অংশ। তাদের মধ্যে তিন ভাই ওই সম্পত্তিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অপর তিন ভাই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও বিরোধ চলে আসছিল। এ তিন ভাই হলেন—হাফেজ বশির, মির আহমদ ও আলী আহমদ। তাদের বাবার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি।
সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু মেম্বার আরো বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি সমাধান বের করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ধরনের কাজ করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাজালাল কে একাধিকবার ফোন করলে ফোন রিসিভ করে না তাই বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
স্থানীয়দের মতে, জমি ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা, বাগানের মালিকানা, গাছ কাটার বৈধতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছৈয়দ আলম প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে তার বাগানের গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আলী আহমদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।