শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ১০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক সেবক ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ২১ টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল যুব সমাবেশ সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলায় দুই সম্পাদকের জামিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ ১ নভেম্বর থেকে খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন প্রত্যাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজারে সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ কক্সবাজারে ১৭৯ বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন উখিয়ায় তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছিকে আটকে সফলতা, পুরস্কার পেল বালুখালী ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই কিবরিয়া ও টিম কক্সবাজারে সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫, ছিনতাইকারী ৫

মানববন্ধনে না থেকেও দুই সাংবাদিক মামলার আসামি: কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রিয়াজ / ৬৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

রিয়াজ উদ্দিন | কক্সবাজার

ফেসবুক লাইভে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক নারী নেত্রীকে নিয়ে আইনজীবীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের আবেদনে দুই পেশাদার সাংবাদিককে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব।

প্রেসক্লাবের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের আবেদন

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের টাঙানো ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী।

ঘটনার ১০ দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে এনসিপি নেত্রী জিনিয়া শারমিন রিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—রাইয়ান কাশেম, মোহাম্মদ হোসাইন, আরিয়ান খান ফারাবী ওরফে ডালিম, সোহানুর রহমান সোহেল, সাঈদ স্বাধীন, আতাহার সাকিফ, আহসান জোবায়ের, জায়েদ বিন আমান, মোহাম্মদ রহমান সোহেল, মোহাম্মদ আবদুল হালিম, শামসুল আলম শ্রাবণ, আবদু শুক্কুর রুবেল ও এনামুল হক।

হাসপাতালে অসুস্থ ছিলেন সাংবাদিক, ঘুমে ছিলেন আরেকজন

মামলার ১১ নম্বর আসামি দৈনিক আমার সংবাদ-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল হালিমের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

অপরদিকে, ১২ নম্বর আসামি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ-এর জেলা প্রতিনিধি শামসুল আলম শ্রাবণ ওই সময় নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দুই সাংবাদিকের দাবি, মানববন্ধন ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ কিংবা সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই না করেই তাঁদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,

“সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই না করে কোনো পেশাদার সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন সাংবাদিক ঘটনার সময় হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন এবং আরেকজন নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত না করে তাঁদের আসামি করা হলে তা সাংবাদিক হয়রানির শামিল হবে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার করা উচিত নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”

কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন,

“মানববন্ধনে উপস্থিত না থেকেও দুই সাংবাদিককে দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইনে আসামি করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মামলা করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। কোনো সাংবাদিককে অহেতুক হয়রানি করা হলে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব তা মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সবসময় সোচ্চার। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নিরপরাধ সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ

দুই সাংবাদিককে মামলায় আসামি করার ঘটনায় কক্সবাজারের সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বা মতামত প্রকাশের কারণে তাঁকে হয়রানি করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণের গুরুত্ব রয়েছে।

এদিকে, মামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!
error: Content is protected !!