রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
নুরুল হোসাইন নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে অপহরণ, মাদক পাচার ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে টেকনাফে দুইটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ইয়াবা পাচার ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টেকনাফ-কক্সবাজার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই এবার কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত মাদক কারবারিদের একটি নির্মোহ, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ তালিকা প্রণয়ন করবে টাস্কফোর্স। তালিকা প্রস্তুতের পর আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপহরণ, চোরাচালান, অস্ত্র ও মাদক পাচার প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে টেকনাফের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় দুইটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যাম্প চালু হলে সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার হবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মাদক পাচার চক্র, অপহরণকারী সিন্ডিকেট এবং সীমান্তভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও বেগবান করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের জন্য শিগগিরই একটি বিশেষ কমিটি বা টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এই কমিটি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করবে, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক পাচারের রুট বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, অপহরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে টেকনাফ ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন এবং শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং মাদক পাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।