রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
নজরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর আসে—মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে টেকনাফের সাবরাং সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সাবরাং বিওপির কাছাকাছি নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল অত্যাধুনিক ফ্যান্টম বোট নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে নাফ নদীতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে একটি কাঠের নৌকাকে বাংলাদেশের জলসীমার দিকে আসতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবির নৌ-টহলদল দ্রুত নৌকাটির দিকে এগিয়ে যায়। নৌকাটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামার জন্য সংকেত দেন। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা তিন ব্যক্তি নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
তবে অভিযানিক দলের তৎপরতায় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি মো. শাহ আলম (৫০)। তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার পুইমালি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম ফজল করিম এবং মাতার নাম মরিয়ম খাতুন।
পরে বিজিবি সদস্যরা নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন কুঠুরি শনাক্ত করেন। সেখানে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা তিনটি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তকেন্দ্রিক অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ভয়াবহ মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস)-এর পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত নজরদারি, নৌ-টহল এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বিজিবির প্রযুক্তিগত নজরদারি, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং আভিযানিক দক্ষতার কারণে মাদকের বড় একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আটক ব্যক্তি, উদ্ধারকৃত ক্রিস্টাল মেথ (আইস), নৌকা ও অন্যান্য জব্দ আলামত নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া তিন ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।