সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
কাইছার হামিদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে নিরাপদ স্যানিটারি ল্যাট্রিন বিতরণ এবং স্থাপনে সরকারি ও বেসরকারি (এনজিও) বিভিন্ন সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে। তারই ধারাজি বাংলাদেশসহ ১৮৯টি রাষ্ট্র বা দেশের ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সেবা ও উন্নয়ন মুলক নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম করেন। ঠিক তেমনি দেশে মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য বিনামূল্যের স্যানিটেশন ল্যাট্রিন বিতরণে দাতা সংস্থা এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে- মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৫০০টি বিতরণ কার্যক্রমে ল্যাট্রিন প্রতি ৩, ৪, ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অহরহ অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে চাহিত টাকা প্রদান করেও টেকসই স্যানিটেশন ল্যাট্রিন পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। অনেকেই অভিযোগ তুলেন ১ হাজার ইটে ৯শত টি, ৮টি সিমেন্টে ৭টি, কংক্রিটে নয় ছয়, বালি দেওয়ার কথা থাকলে তারও দেয়নি। যার দরূন নিম্নমানের সামগ্রি তৈরী করা হচ্ছে ল্যাট্রিন বা বার্থরুম। সেখানে প্রদানকৃত চাকাগুলিও খুবই দুর্বল ও ক্ষণস্থায়ী। যা নড়াছড়া করতেই ভেঙ্গে ছারকার হওয়ার অভিযোগ অহরহ। কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত টেকসই ল্যাট্রিনগুলি বিনা খরচে প্রদানের কথা থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ১টি ল্যাট্রিনের বিপরীতে প্রতি ৩, ৪, ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেছে। এতে সচেতন মহলের মাঝে চলছে নানা কানাঘুষা। তাদের দাবী যেখানে একটি টাকাও নেওয়া বৈধতা নেই সেখানে কিভাবে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে গ্রাহকদের থেকে আদায়কৃত সমুদয় টাকা ফেরত প্রদানসহ এহেন অবৈধ কর্মকান্ড রোধ করতে দাবী জানান জাতীয় সাংসদ আলমগীর মুহাম্মদ ফরিদসহ উপজেলা প্রশাসনের নিকট।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের পক্ষ থেকে দ্বায়ছাড়া বক্তব্য। তারা জানান টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানেন না। তাদের কাজ স্যানিটেশন ল্যাট্রিন তৈরী করে বুঝিয়ে দেওয়া। মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু হায়দার এবিষয়ে অবগত নয় বলে জানান।
ল্যাট্রিন বাবদ টাকা আদায়ে বৈধতা আছে কিনা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুদর্শন এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদক কে জানান স্যানিটেশন ল্যাট্রিন বিতরণে কোন ধরণের ফি বা টাকা নেওয়া অবৈধ ও অযুক্তিক। যদি কেউ এধরণের টাকা নেন, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান- বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এখনো এমন কার্য চলমান। খোঁজ নিয়ে জড়িত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।