রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
পিএমখালীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতার ওপর হামলা, ২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কক্সবাজারের সর্ববৃহৎ খরুলিয়া বাজারে লাইটিং, সিসি ক্যামেরাসহ উন্নয়ন উদ্যোগ কক্সবাজারে ৬২ ইউপিতে ভোট, তফসিল চলতি মাসেই ফেনীর ৪ তরুণ অপহরণ মামলার আসামি জাহাঙ্গীর টেকনাফে গ্রেপ্তার রামুতে কিশোরীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বাবাকে দা দিয়ে কোপ টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি-২০২৬-এর ৭ কৃতী শিক্ষার্থী ও সফল অভিভাবকদের রাজকীয় সংবর্ধনা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর-ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীসহ গ্রেপ্তার ২২ কক্সবাজারে ইকরাম হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার উখিয়ায় অপহরণের পর ফেরিওয়ালা উদ্ধার, মুক্তিপণ দাবি ১০ লাখ টাকা খুরুশকুল নতুন ব্রিজে পুলিশের অভিযান: দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারিদের তালিকা: পুরোনো ১,১৫১ জনের তালিকার সাথে নতুনদের অন্তর্ভূক্তির দাবি

সোলতান আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

সোলতান আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে আলোচিত। বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ইয়াবার বড় চালান দেশে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ১৫১ জন মাদক বা ইয়াবা কারবারির নাম থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে ওই তালিকাটি পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে নতুন করে তথ্য যাচাই ও তালিকা হালনাগাদের দাবি উঠেছে।

টেকনাফেই ছিল ৯১২ জন

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ১৫১ জনের ওই তালিকার মধ্যে ৯১২ জনই টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। একই তালিকায় ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারি বা ‘গডফাদার’-এর কথা উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এদের মধ্যে ৬৫ থেকে ৬৬ জন টেকনাফের বাসিন্দা বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। এ তথ্যের পার্থক্য থাকায় সংশ্লিষ্ট মূল নথি যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যাকে বর্তমান বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

হ্নীলাসহ সীমান্ত এলাকার নাম বেশি

পুরোনো তালিকা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকার নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে হ্নীলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি তালিকাভুক্ত থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়। এক প্রতিবেদনে ১ হাজার ১৫১ জনের তালিকায় হ্নীলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ২২৯ জনের নাম থাকার কথা বলা হয়। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের পুলিশি তালিকার তথ্য, বর্তমান সময়ের অপরিবর্তিত তালিকা নয়।

২০১৯ সালে ১০২ জনের আত্মসমর্পণ

২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে প্রথম দফায় ১০২ জন তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি ও পৃষ্ঠপোষক আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় একজনের মৃত্যুর পর ১০১ জনের বিরুদ্ধে আদালতের রায় হয়। ২০২২ সালে আদালত তাদের প্রত্যেককে দেড় বছর করে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্বিতীয় দফায়ও আত্মসমর্পণের উদ্যোগ

২০১৯ সালের প্রথম দফার পর ২০২০ সালেও কক্সবাজারের টেকনাফে দ্বিতীয় দফায় আরও ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পুরোনো তালিকা দিয়ে বর্তমান কাউকে চিহ্নিত করা যাবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর আগের তালিকায় নাম থাকা মানেই কোনো ব্যক্তি বর্তমানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।

কারণ তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন, কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, আবার কারও বর্তমান আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। তাই সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশের আগে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের তথ্য, এজাহার, মামলা নম্বর, চার্জশিট, আদালতের রায় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।

কক্সবাজারে মাদকের নতুন বাস্তবতা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াবার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ পাচার নিয়েও কক্সবাজারকে গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও বড় চালানের মূল হোতা ও সংগঠকদের আইনের আওতায় আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হালনাগাদ ও যাচাইকৃত তালিকার দাবি

কক্সবাজারবাসীর দাবি, জেলা পর্যায়ে মাদক কারবারিদের একটি নতুন, যাচাইকৃত ও শ্রেণিভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হোক। সেখানে-সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে শুধু ইয়াবার চালান জব্দ বা বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না; এর নেপথ্যের অর্থদাতা, মূল হোতা, পাচার নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ও অযাচাইকৃত তালিকার কারণে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!
error: Content is protected !!