মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নে বসতঘরে তিনটি অস্ত্র রেখে স্থানীয় কয়েকজনকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কথিতভাবে অস্ত্রগুলো বসতঘরে রাখার কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তির বক্তব্য এবং একটি অডিও রেকর্ড সামনে আসায় পুরো ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কথিত অস্ত্র সরবরাহকারী মুফিজকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এনায়েত উল্লাহর বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি তাদের। ওই অডিওতে অর্থের বিনিময়ে তাকে দিয়ে কথিত কাজটি করানোর বিষয়ে বক্তব্য রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ সিকদার ওরফে কেড়া সিকদারের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রথমে ওই ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে এনায়েত উল্লাহর বসতঘরে পাঠানো হয় এবং পরে সেখানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে মামলায় জড়ানো হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে বসতঘর থেকে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় এনায়েত উল্লাহ, নাসির, আবদুল খালেক ও আবদুর রহিমকে আটক করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এনায়েত উল্লাহ ও নাসিরকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আবদুল খালেক ও আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই ঘটনায় মোট সাতজনকে মামলার আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় জমিজমা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ায় মোহাম্মদ আনসার মেম্বার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বসতঘরে অস্ত্র রাখার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
কেড়া সিকদারের পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সিকদার ওরফে কেড়া সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা মুফিজকে চেনেন না বলে জানান।
এ সময় তিনি মোহাম্মদ আনসার মেম্বারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “আনসার মেম্বার একজন সন্ত্রাসী। তিনি আমার ঘোনায় এসে অস্ত্র দিয়ে দখল করার চেষ্টা করেছিলেন।”
এ কথা বলার পর তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফলে একদিকে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অস্ত্র রেখে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, অন্যদিকে কেড়া সিকদারের পক্ষ থেকে আনসার মেম্বারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে দখলচেষ্টার পাল্টা অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি।
অডিও রেকর্ড ঘিরে নতুন প্রশ্ন
এদিকে কথিতভাবে অস্ত্র রাখার কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তির বক্তব্য এবং অডিও রেকর্ডের বিষয়টি সামনে আসায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অডিও রেকর্ডটি প্রকৃত কি না, সেখানে থাকা কণ্ঠ কার এবং কথোপকথনটি কোন প্রেক্ষাপটে হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, অস্ত্র উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
তারা অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।
অন্যদিকে, কেড়া সিকদারের পাল্টা অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবশেষে প্রশ্ন উঠছে—মহেশখালীর ওই বসতঘরে উদ্ধার হওয়া তিনটি অস্ত্র সেখানে কীভাবে গেল, কে বা কারা অস্ত্রগুলো রেখেছিল এবং এ ঘটনায় আসলে কারা জড়িত? অডিও রেকর্ডের সত্যতা ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্রের নিরপেক্ষ তদন্তেই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।