সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ১০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক সেবক ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ২১ টেকনাফে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল যুব সমাবেশ সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলায় দুই সম্পাদকের জামিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ ১ নভেম্বর থেকে খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন প্রত্যাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজারে সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ কক্সবাজারে ১৭৯ বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন উখিয়ায় তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছিকে আটকে সফলতা, পুরস্কার পেল বালুখালী ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই কিবরিয়া ও টিম কক্সবাজারে সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫, ছিনতাইকারী ৫

বিয়ের পর সন্তান, ৩ মাসেও মিলছে না কাবিননামা ঝিলংজা কাজী অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার / ১০৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

  • কাবিননামা চাইতে গেলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়
  • সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: কাজী সমিতির সভাপতি
  • সাদা কাগজ কাবিননামার আনুষ্ঠানিক সাড়ান কাজী

নিজস্ব প্রতিবেদক , কক্সবাজার

বিয়ের পর সংসার, এরপর সন্তানের জন্ম—কিন্তু তিন মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে এখন কাবিননামার সন্ধানে ভুক্তভোগী তৌহিদা আক্তার বিলকিস। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কাজী অফিসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও কাবিননামা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজী মোহাম্মদ হোসাইনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাজীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগী তৌহিদা আক্তার বিলকিসের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঝিলংজা ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) মোহাম্মদ হোসাইনের কার্যালয়ে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ওই সময় বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও কাবিননামা সম্পন্ন হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তিনি কথিত স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন।

পরবর্তীতে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় তিন মাস। সন্তান জন্মের পর বিভিন্ন প্রয়োজনে কাবিননামার কপি প্রয়োজন হলে তিনি স্বামী ও সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছে কাবিননামা চাইতে থাকেন। কিন্তু কাবিননামা দিতে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ তার।

কাবিননামা চাইতে গিয়ে জটিলতা

তৌহিদা আক্তার বিলকিসের অভিযোগ, কাবিননামার কপি চাইলে একপর্যায়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি তাকে মারধর এবং শিশুসন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

পরে গত ১৫ আগস্ট ভুক্তভোগী, তার মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজীর কার্যালয়ে গিয়ে কাবিননামার সত্যায়িত নকল চান। কিন্তু সেখানেও কাবিননামার কপি দিতে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে জানানো হয়—২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের কথিত বিয়ের কাবিননামা যথাযথভাবে রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এতে বিয়ের বৈধতা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

তৌহিদা আক্তার বিলকিস বলেন, “বিয়ে হয়েছে—এই বিশ্বাসেই আমি স্বামীর সঙ্গে সংসার করেছি। আমাদের একটি সন্তানও হয়েছে। বিয়ের সময় কাবিননামা রেজিস্ট্রেশন করা হবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর কাবিননামার কপি চাইতে গেলে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। পরে কাজীর কার্যালয়ে গিয়েও কাবিননামার কপি পাইনি। এখন বলা হচ্ছে, আমার বিয়ের কাবিননামাই নাকি রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এতে আমি ও আমার সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কথিত স্বামী রামিম হাসান সাজিত, তার বাবা আব্দুল আজিজ, মা আনজুমান আরা বেগম এবং সংশ্লিষ্ট কাজী মোহাম্মদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের বৈধতার বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করে সংসার করতে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কাবিননামা না পাওয়ায় তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: কাজী সমিতির সভাপতি

বিষয়টি সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মো. শাহাদাতুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাজীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী মোহাম্মদ হোসাইনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর কাবিননামা রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে এর নথি কোথায় এবং না হয়ে থাকলে এর দায় কার—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ভুক্তভোগীর করা অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!
error: Content is protected !!