বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশর নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজন পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার ছৈয়দুল বশর পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের ১১৫ নম্বর সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে পাঁচটি কার্টনে রাখা ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ছৈয়দুল বশরের বয়স ৩৫ বছর। তিনি পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকার আব্দুস ছবুরের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহজনক অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় চালকসহ তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে ছৈয়দুল বশরকে আটক করলেও অন্য দুজন পালিয়ে যান। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশার চালকের আসনের নিচে রাখা একটি সাদা বস্তা তল্লাশি করে পাঁচটি কার্টনে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ছৈয়দুল বশরের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আগের পাঁচটি মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ছয় মাসে তিনি দুবার কারাগারে গেছেন। চাঁদাবাজি ও আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসংক্রান্ত মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও মাদক কারবারে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এলাকায় সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক কারবারের একটি বড় সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি কারাগারে থাকাকালেও ওই কারবার চলমান ছিল। তাঁর সিন্ডিকেটের কাছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও অন্য দুজন পালিয়ে যান। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির আগের মামলাগুলোর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।