বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দক্ষিণ হ্নীলা পূর্বপানখালী এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম মোহাম্মদ হোছনের ছেলে মোক্তার আহমদ তাঁর বসতভিটার জমি জবরদখল, চলাচলের পথ বন্ধ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি ফিরে পেতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৪ বছর ধরে বসবাস, হঠাৎ জমি দখলের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে মোক্তার আহমদ জানান, তিনি ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর পশ্চিম সিকদার পাড়ার ফকির আহমদের ছেলে হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ২০ শতক সরকারি পিএফ জমির দখল হস্তান্তর নথির মাধ্যমে গ্রহণ করেন।
পরবর্তী সময়ে আরও জমি দখল হস্তান্তর নথির মাধ্যমে গ্রহণ করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে ওই বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন বলে দাবি করেন।
তাঁর অভিযোগ, প্রায় আট মাস আগে থেকে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোছন, আমান উল্লাহ, আমির হোছন ও ফকির আহমদের বিরুদ্ধে তাঁর ভোগদখলীয় জমি জবরদখল এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মোক্তার আহমদের দাবি, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে প্রথমে চলাচলের পথ দখল করে অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। পরে তাঁর বসতভিটার একাংশ দখল করে রহিমা খাতুন নামের এক নারীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমানাসংলগ্ন আরও কিছু জমি ঘেরাও করে দখলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মারধর ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগমোক্তার আহমদ আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বসতভিটা থেকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করার ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় অবশিষ্ট বসতভিটাও দখল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ন্যায়বিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে মোক্তার আহমদ ২০২৬ সালের ১১ জুন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে জমি উদ্ধার, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের নথিতে উল্লেখিত কার্যক্রম অনুযায়ী, ১১ জুন অভিযোগ গ্রহণের পর বিবাদীদের সমন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২২ জুন বাদী উপস্থিত থাকলেও বিবাদীরা অনুপস্থিত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী ২৫ জুনের শুনানিতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বক্তব্য শোনা হয় এবং প্রয়োজনীয় পক্ষ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৯ জুলাই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জবানবন্দি গ্রহণ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়।
১৫ দিনের মধ্যে দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ ইউনিয়ন পরিষদের লিখিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, বাদী হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে ২০ শতক পিএফ জমি এবং ফকির আহমদের কাছ থেকে আরও জমি নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। পরে বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ৩০ কড়া জমি দখল করে রহিমা খাতুন নামের এক নারীকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে বাদীর অভিযোগের বিষয়ে শুনানি ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়।আদেশে বাদীর খরিদ করা ২০ কড়া জমির দখল এবং যাতায়াতের পথ ১৫ দিনের মধ্যে অবমুক্ত করে দেওয়ার জন্য বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাসংবাদ সম্মেলনে মোক্তার আহমদ বলেন, দীর্ঘদিনের বসতভিটা ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের আদেশ বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বসতভিটার দখল ফিরে পাওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের সংঘাত চান না,বরং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিজের দাবি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।